শিশুর কৃমি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

68

হ্যাঁ, প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে ভালো পন্থা। কৃমির ক্ষেত্রে এ কথাটি আরও বেশি কার্যকর।

ষ খাওয়ার আগে ও টয়লেট থেকে আসার পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। টয়লেটে যাওয়ার সময় অবশ্যই শিশুদের স্যান্ডেল পরার অভ্যাস করতে হবে। শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকে এ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

ষ শিশুর হাত-পায়ের নখ ছোট রাখবেন। মাঠে-ঘাটে শিশুকে খালি পায়ে খেলতে দেবেন না।

ষ রান্নার আগে শাকসবজি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এ সময় অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে।

ষ মাংস, বিশেষ করে গরুর মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ করে খেতে হবে। অর্ধসিদ্ধ কিংবা ঝলসানো মাংস না খাওয়াই শ্রেয়।

ষ খালি পায়ে হাঁটা কৃমি সংক্রমণের জন্য দায়ী। এ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

ষ নোংরা পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বর্জন করতে হবে। বাইরের খোলা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়াই ভালো।

ষ অনিরাপদ পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পানি অবশ্যই ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করবেন।

কৃমিনাশক ওষুধ কখন কীভাবে খাওয়াবেন তা নিয়ে রয়েছে নানা জিজ্ঞাসা। রয়েছে ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়ার ভয়। সাধারণত দুবছরের বেশি বয়সী শিশু ও বড়দের ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত। শিশু ও বড়দের জন্য একক মাত্রার ডোজ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যদি কৃমির সংক্রমণ থেকে যায় তবে দুসপ্তাহ পর আবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কৃমিনাশক খাওয়ার পরে কখনো পেটে ব্যথা, বমি ভাব এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যাটি সাময়িক এবং গুরুতর নয়। অনেক সময় কৃমিনাশক খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার যে খবর পাওয়া যায়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারজনিত।

কৃমিনাশক ওষুধ শিশু ও বড়দের সবারই খাওয়া উচিত। কৃমিনাশক ওষুধ সপরিবারে খেলে কার্যকর ফল পাওয়া যায়। বয়স দুবছরের বেশি সবাইকে সিরাপ অষনবহফধুড়ষব ২ চামচ (৪০০ সম) একবার অথবা ট্যাবলেট অষনবহফধুড়ষব ৪০০সম ১টি চুষে খাবে একবার। সিরাপ অথবা ট্যাবলেট গবনবহফধুড়ষব ১০০সম ১টি করে ১২ ঘণ্টা পর পর ৬টি ট্যাবলেট খাওয়ানো যায়। এ ছাড়া চুৎবহঃধষ ঢ়ধসড়ধঃবসহ নানা ধরনের কৃমিনাশক ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়। দুবছরের কম বয়সী শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হলে অথবা কৃমিজনিত অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলে অথবা কৃমির অন্য ওষুধ খাওয়াতে চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ।

অসুস্থ, রোগ প্রতিরোধ কমে গেছে এমন কেউ, অ্যালার্জি আক্রান্ত রোগী, রক্তকণিকায় রোগের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীর কৃমির ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা যাবে না। গর্ভবতী মায়ের কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়ানোই উত্তম।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক

শিশু ও নবজাতক বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল)

সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here