নারী শিক্ষায় কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ অনন্য

460

শাহ সৈকত মুন্না, বিশেষ প্রতিনিধি :
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দারুন নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিরিবিলি এবং গোছানো পরিবেশ দেখে যে কেউই মুগ্ধ হবে। হ্যা আমি বলছি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত মেয়েদের পড়ালেখার জন্য গড়ে উঠা কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের কথা।

ঢাকার উত্তরা থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বিখ্যাত সমাজসেবক এবং দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ১৯৪৪ সালে নিজ গ্রামে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী হাসপাতাল। আর ২০০১ সালে রণদা প্রসাদ সাহার দৌহিত্র (নাতি) রাজীব প্রসাদ সাহার হাত ধরে মির্জাপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক এই কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে এখন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বর্ষে ৬৫৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন।

এমবিবিএস কোর্সে বিদেশি শিক্ষার্থী আছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে নেপালের ১৯ জন ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের ২২৩ জন শিক্ষার্থী এবং বিডিএস কোর্সে পড়ছেন ৭৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

মূল ভবনের নিচতলা ও দোতলায় শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক চারটি লেকচার গ্যালারি। ক্যাম্পাসের খুব কাছাকাছি মেয়েদের থাকার জন্য আছে জয়া, বিজয়া, অমিয় বালা, অরুনিমা, নিউ হোস্টেল-১, নিউ হোস্টেল-২ এবং নির্মাণাধীন আছে আরো একটি হোস্টেল। এমবিবিএস বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল ও ডাইনিং সুবিধা।

ক্যাম্পাসসহ নানা বিষয়ে কথা হলো ৫ম বর্ষের কাশ্মীর থেকে পড়তে আসা শফকাতুন নেছা, ছুমাইয়া রশিদ, ছাদাফ রাফিক, সোহেলা জোহের এর সাথে। পাশ করে ফিরে যাবেন নিজ জন্ম ভুমিতে করবেন মানব সেবা। ৩য় বর্ষের কাশ্মীরের শিক্ষার্থী কাউছার আনজুম বলেন আমার বান্ধবী পরতেন এই মেডিকেল কলেজে। ওর কাছ থেকেই শুনেছি কুমুদিনীর গল্প। পরিবেশটা অনেক সুন্দর। নেপাল থেকে পড়তে আসা সংগিতা ভাট্টা, প্রশংশা এরা বলেন খুব সুন্দর পরিবেশ এই ক্যাম্পাসের। ক্লাসে কোনো সমস্যা হলে শিক্ষকেরা খুব সাহায্য করেন।

এছাড়াও কথা হয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে হুমায়রা তানজিম, মৃত্তিকা তারুয়া, উম্মে হানি চাদনি, নাদরাতুন নায়মা এদের স্বজনেরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্তন শিক্ষার্থী ছিলেন।

কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম বলেন, এখানে পড়তে আসা মেয়েদের আমরা খুব সহজ করে বুঝাতে সাহায্য করি। আমরা চেষ্টা করি মেয়েরা যেন প্রথমে একজন ভাল মানুষ এবং পরে একজন ভাল ডাক্তার হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

১০৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কুমুদিনী হাসপাতাল শিক্ষার্থীদের খুব আন্তরিকতার সাথে শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এখানে যেসব মেয়েরা ভালো ফল করে তাদের জন্য আমরা পুরস্কারের ব্যবস্থা করি। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অব্যাহত রাখার জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমরা করব। দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের মেয়েরা দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করবে এটাই আমাদের চাওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here