বুলবুলে ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকার

41

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে সারাদেশে ২৬৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুুর রাজ্জাক। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জেলাগুলো হচ্ছে- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর। ঝড়ের পরপরই ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৬ জেলার ২ লাখ ৮৯ হাজার

হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে। ১৬ জেলার ১০৩ উপজেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬ হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪%) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর (মোট আক্রান্ত জমির ৮ শতাংশ)। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৫০ হাজার ৫০৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ টন। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মধ্যে রোপা আমনের ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, সরিষার ১ হাজার ৪৭৬ হেক্টর, শীতকালীন সবজির ১৬ হাজার ৮৮৪ হেক্টর, খেসারির ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর, মসুরের ১৯৫ হেক্টর, পানের ২ হাজার ৬৬৩ হেক্টর এবং অন্যান্য ৩ হাজার ১২৬ হেক্টর জমি রয়েছে।

ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না দাবি করে ড. রাজ্জাক বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমন মাঠে যে ফসল আছে, ধান কাটা কেবল শুরু হয়েছে। আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। এ ছাড়া এবার ধানে চিটা কম হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ এবং কবে নাগাদ তা দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরিষা পুনর্বাসন করা যাবে, বিএডিসির কাছে বীজ আছে। সরিষা বা খেসারি তারা (কৃষক) আবার করতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন সবজিও খুব কম হয়। চুলচেরা হিসাব করার পর জানানো যাবে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে যাওয়ায় যেমন আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত, কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

পূর্ব সুন্দরবনে মারা যায়নি বাঘসহ কোনো বন্যপ্রাণী

এদিকে বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ কোনো বন্যপ্রাণী মারা যায়নি। তবে ৬টি আবাসিক, ১৭ অনাবাসিক, ১০ জেটি ও ১৯টি নৌযানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই রেঞ্জ কর্মকর্তা সরেজমিন বন ঘুরে দেখে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে কি পরিমাণ বনের ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দুই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ নির্দেশনা দেন। ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ওই দুই রেঞ্জ কর্মকর্তা সরেজমিন ঘুরে দেখে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মূলত জানা যাবে সুন্দরবনের ক্ষতির সঠিক পরিমাণ।

বন বিভাগের সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্যমতে, দুবলারচরে বাঁশ, গোলপাতা, হোগলা ও পলিথিন দিয়ে তৈরি জেলেদের অস্থায়ী কিছু ঘরের আংশিক ক্ষতির পাশাপাশি বন বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন ও ক্যাম্পের পুরনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মোংলার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ক্যাম্প এলাকায় বেশ কিছু রেইন্ট্রি/শিরিষ গাছ উপড়ে পড়েছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বনের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিন কবির ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা নিজ নিজ রেঞ্জ এলাকায় সরেজমিন গিয়ে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে আমার কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
সুত্র: দৈনিক আমাদের সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here